ঐ দিন প্রত্যুষে ত্রিলোক পূজ্য লোক বিদু তথাগত ভগবান সম্যক সম্বুদ্ধ দিব্য চক্ষুতে জগৎ অবলোকন পূর্বক যখন দেখলেন; তখন মহাদুঃখী ও তার স্ত্রীকে দেখতে পেলেন। তা’দের দুজনের শক্তিশালী ও পবিত্র দান চেতনা বুদ্ধ দেখতে পেলেন। তিনি আরো দেখতে পেলেন যে, মহাদুঃখী এক ভিক্ষুর জন্য ছোয়াইং তৈরি করবে? কিন্তু পরিশেষে কোন ভিক্ষু পাবে না। তালিকা ও লটারি অনু্যায়ী ভিক্ষুগণ অন্যত্র-ফাংএ গমন করবেন। সেজন্য শ্রদ্ধেয় বনভান্তের মতে মাতা পিতাগণ সন্তান্দের যেভাবে স্নেহ প্রীতি ভালোবাসা দিয়ে সর্ব প্রকার ভয় বিপদ থেকে উদ্ধার করে থাকেন। ঠিক তেমনি মহাকারুনিক বুদ্ধগণও সত্ত্বগণকে উদ্ধার করে থাকেন। ভগবান বুদ্ধ মহা করুণায় মহা দুঃখীদের ফাংগ্রহণ করবেন বলে মন স্থির করলেন।

মহাদুঃখীদের এটা শক্তিশালী পরিপূর্ণ পূর্ব চেতনার উত্তাপে স্বর্গরাজ দেবরাজ ইন্দ্রের সিংহাসন উত্তপ্ত হয়ে গেলো। স্বর্গ রাজ দেবতাদের অধিপতি ইন্দ্ররাজ চিন্তা করলেন কী হলো? আজ আমার সিংহাসনটা উত্তপ্ত হলো কেন? কে আবার আমার আসন কেড়ে নিবে? কে আবার আমার ইন্দ্রত্ব কেড়ে নিবে? কাকে দেখলেন তিনি দিব্য চক্ষুতে? দেখলেন দু’জন গরীব স্বামী-স্ত্রীকে। মহাদুঃখী স্বামী স্ত্রী এক ভিক্ষুকে ছোয়াইং দ্বারা পূজা ও দান করবে। কে সেই ভিক্ষু? দেবরাজ ইন্দ্র দিব্য চক্ষুতে অবলোকন করলেন যে, ঐ একজন ভিক্ষু অন্য কেউ নন; স্বয়ং কাস্যপ বুদ্ধ। সুতরাং দেবরাজ ইন্দ্র সিদ্ধান্ত নিলেন যে, ঐ সুযোগে তিনিও পূণ্যের অংশীদার হবেন।

স্বর্গ থেকে নেমে আসলেন এবং বাবুর্চির ছদ্ম বেশ ধারণ করলেন। সকাল হয়েছে; রান্নার কাজ শুরু করতে হবে, বাবুর্চি বেশ ধরে দেবরাজ ইন্দ্র জিজ্ঞেস করলেন, এখানে রান্না বান্না করার জন্য লোকের প্রয়োজন আছে কি? আমি বিনা পয়সায় রান্না বান্না করে দেবো। দরিদ্র প্রশ্ন, আপনি কে? হ্যা আমি বাবুর্চি; আমাকে মজুরী দিতে হবে না, আমি কিছু চাই না, পূণ্যের ভাগ দিলে শুধু হবে, তখন মহাদুঃখী দরিদ্র চিন্তা করলেন, আমরা তো সারা জীবন গরীব থাকায় ভালো মতো রান্না বান্না ও জানি না, ভালো মতো মাছ, মাংসও কোন দিন খাইনি, সুতরাং এই লোকটা বলেছে যে, ভালো বাবুর্চি; ডাকলে কি হয়? কোন মজুরীও নাকি দিতে হবে না। তাহলে ডাকি, আসুন আসুন, আমার বাড়ীতে আসুন, বেশি না একজন ভিক্ষুর জন্য ছোয়াইং রান্না করতে পারবেন? হ্যা পারবো। বাহ দেবরাজ ইন্দ্রও খুব খুশি হয়ে পূণ্য কর্মের যোগ দেন।

মহাদুঃখী স্ত্রী বাবুর্চিকে নিয়ে সকালে পাত্রাদি পরিষ্কার করে কাজে লেগে যায়। দরিদ্র স্ত্রী, স্বামীকে নদী কূল হতে শাক তুলতে ও জেলের কাছ থেকে মাছ আনতে পাঠিয়ে ছিলো, লোকটি আনন্দময় গান করতে করতে শাক তুলতে থাকে। অন্য দিনের মত জেলেরা দরিদ্রকে জাল পরিষ্কার করবার জন্য নৌকায় তুলে নেয়। সেদিন মাছের চাহিদা ছিল অত্যন্ত বেশি। জেলেরা দুঃখীকে মাছগুলো একটু ভাগ ভাগ করে রশিতে বেধে চার আনা, আট আনার এরকম করে মাছগুলি বাধতে বলেছিলো। মহাদুঃখী মাছগুলি আনন্দের সাথে ভাগ ভাগ করে বাধতে থাকে। ঐদিকে সূর্য ঊঠছে। মানুষেরাও ভিক্ষু সংঘকে ছোয়াইং দেয়ার জন্য তার কাছ থেকে চার আনার, আট আনার, এক টাকার মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। অল্প পরক্ষণের মধ্যে মাছ গুলো বিক্রি হয়ে গেলো এতে জেলেরাও খুব আনন্দিত। জেলেরা নিজেদের জন্য চারটি রুই মাছ লুকিয়ে রেখে দেয়। দরিদ্রটি এক ভিক্ষুকে দান করবে দান করবে জেনে জেলেরা তাকে একটি বিনা পয়সায় রুই মাছ প্রদান করে। পূন্যের ভাগ দাবী চাই, হ্যা দেবো, বিনা পয়সায় মহাদুঃখী মাছ পেয়ে গেলো। শাক আর মাছটি নিয়ে বাড়ীতে আসে। রান্না বান্না শুরু হয়ে গেছে, রান্না করতেছে বাবুর্চি বেশ ধরে দেবরাজ ইন্দ্র স্বয়ং। রান্না বান্না শেষ, স্ত্রী বলছে, কিগো বসে আছো কেন? ভিক্ষুকে ফাং করে নিয়ে এসো। ছোয়াইং এর সময় হয়ে গেছে তো? হ্যা হ্যা যাচ্ছি বলে তাড়াতাড়ি ভালো মতো স্নান করে জেতবন বিহারে চলে গেলো। দরিদ্রটি নিমন্ত্রণ কারীর নিকট গিয়ে তার ফাং করা ভিক্ষুদের জন্য অনুরোধ করে। তখন সব ভিক্ষু বিলি হয়ে গিয়েছিল। ভিক্ষু নেই জেনে দরিদ্রটি বুকে করাঘাত করে চিৎকার করে কাদতে থাকে। বহু লোক জড় হয়। ব্যাপার জেনে সকলে লোকটাকে তিরষ্কার করতে থাকে। তিনি-“বুদ্ধ মহাকারুনিক” তিনি নিশ্চয়ই তোমাকে করুনা করবেন। তুমি বুদ্ধের নিকট যাও। বুদ্ধকে নেবার জন্য রাজা এবং বহুধনী বারান্দায় অপেক্ষা করে আছেন......চলবে।