রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলাধীন বন্দুকভাঙ্গা মৌজার অন্তর্গত কুকিপাড়া নামক গ্রামটি খারিক্ষ্যং গ্রামের পার্শ্বে দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। এখানে বর্তমানে মাত্র ২২ টি পরিবার নিয়ে এই গ্রামটি গঠিত। দূরের অচেনা, অজানা মানুষের মনে হয়তো প্রশ্ন জাগতে পারে, সেখানে কি কোন কুকি বাস করে? আসলে সেখানে কোন কুকি বাস করে না, বাস করে শুধু চাকমা। আজ থেকে প্রায় দেড়শত বছর আগে এই কুকিপাড়া নামক গ্রামটি “কড়ইতলী বিল” নামে পরিচিত ছিল। বিশেষ কারণবশতঃ এই গ্রামের একজন কুক্যা নামে ডাকা হতো। এই কুক্যা নামানুসারে গ্রামটির নাম কুকি পাড়া হয়। অবশ্য এই কুক্যার মনের স্বভাব চরিত্র অনেকটা কুকি জাতিদের ন্যায়। অর্থাৎ একগুঁয়ে। তার মানে কোন কাজ করবেই বললেই যে কোন মূল্যেই করবে। আর করবে না বললে স্বয়ং ভগবান বুদ্ধ বললেও করবে না। এরা পূর্বে নামে বৌদ্ধ হলেও কাজে কর্মে মোটেও বৌদ্ধ নয়। অর্থাৎ কুকি পাড়া বাসীরা পূর্বে নিজেরা তৈরি করে মদ পান করত, জাল-বড়শি দিয়ে মাছ ধরত; হাঁস-মুরগি, ছাগল, শূকর সবই পালন করত। তবুও তাদের জীবনযাপন ছিল অসচ্ছল। পরে শ্রাবক বুদ্ধ শ্রদ্ধেয় বনভন্তের কথা মতো বৌদ্ধ আদর্শে দীক্ষিত হয়ে কয়েক পরিবার ঐ সমস্ত কাজ ছেড়ে দেয়। পরে এদেরকে দেখে আস্তে আস্তে অন্যান্য পরিবারেরাও ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ২২ পরিবারের মধ্যে মাত্র কয়েক পরিবার জড়িত আছে তাদের মনেও বুদ্ধের জ্ঞান অর্জিত হলে তারাও পরে ছেড়ে দিবে বলে অবশ্যই আশা করা যায়। চাকমা সমাজে প্রায় দেখা যায় চৈত্র সংক্রান্তি অর্থাৎ বিজু উপলক্ষে নিজেরা ঘরে ঘরে মদ তৈরি করে মদ খায়, নাচ-গান করে। কিন্তু বর্তমানে বনভন্তের ছায়াতে এসে কুকিপাড়াবাসীরা নিজেদেরকে নিজে পরীক্ষা করে দেখতেছে; অকুশল কর্ম, খারাপ কাজ না করাতে তারা আগের চেয়ে অনেক সচ্ছল। সম্ভবত তাদের মন কুকিদের ন্যায় হওয়াতে ঐ সমস্ত কাজ ছেড়ে দিতে পেরেছে। শ্রদ্ধেয় বনভন্তেও প্রায় দেশনায় বলেন তোমাদের কুকিদের মতো হতে হবে। তিনি আরও বলেন- বৌদ্ধরা যদি বুদ্ধের নির্দেশ মতো পঞ্চশীল পালন করে, সর্বজীবের প্রতি মৈত্রীভাব পোষণ করে, আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি তোমাদের তিন বছরের মধ্যে অবশ্যই আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে আসবে। অতএব, আমি সকল বৌদ্ধদের আহবান জানাচ্ছি। সকলে নামে বৌদ্ধ নয়, কাজে কর্মে প্রকৃত বৌদ্ধ হই। শুধু প্রার্থনায় বৌদ্ধ প্রতিরূপ দেশ গড়ে তোলা যায়/ যাবে না। সকলেই একতাবদ্ধ হয়ে বুদ্ধের নির্দেশিত উপদেশ মোতাবেক চললে অবশ্যই সুখ, শান্তি, আদর্শ বৌদ্ধ পল্লী, আদর্শ বৌদ্ধ সমাজ এবং আদর্শ বৌদ্ধ আর্য জীবন লাভ সম্ভব। তার আগে নয়।# প্রকাশকাল- ২৫ অক্টোবর ২০০৭