দেশ, জাতি ও সমাজ যখন মিথ্যায়-হিংসায় আবর্তিত হয়ে ধ্বংসের পথে নিমজ্জিত হয় সেই জাতি, সেই দেশ ও সেই সমাজকে রক্ষা বা উদ্ধার করতে পৃতিবীতে কেউ বীর হয়ে জন্মগ্রহণ করেন আর কেউ মহাপুরুষরুপে আবির্ভাব হন। অনুরুপ পার্বত্য অঞ্চল তথা বাংলাদেশের মানুষ যখন সদ্ধর্ম হারা হয়ে সত্য ও সম্যক পথ হারিয়ে মিথ্যা ভ্রান্ত পথে ধাবিত হয়ে হিংসা-হানাহানি অন্ধকারে লিপ্ত, এমনি সময়ে অহিংসা মৈত্রীময় সত্য ধর্ম প্রচার ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত পার্বত্য নামক ভূ-খন্ডে আবির্ভূত হলেন দুর্লভ পবিত্র মহামানব মহান সাধক শ্রাবক বুদ্ধ শ্রদ্ধেয় শ্রীমত সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভন্তে) মহোদয়। তার আদর্শ, আর্যনীতি ও সত্যের বাণী সুরক্ষা, সু-প্রতিষ্টা ও বিকশিত করার লক্ষ্যে দরকার অনুকূল পরিবেশ ও আদর্শ বৌদ্ধ সমাজ। সেই আদর্শ বৌদ্ধ সমাজ প্রতিষ্টায় প্রগতিশীল ও সত্যবাদী তরুণদের মেধা, মনন, প্রজ্ঞা ও সাহস নিয়ে দরকার এগিয়ে আসা। তরুণদের তারুণ্য সতেজ প্রাণচঞ্চলতা উদ্দীপ্ত-উচ্চ্বাসিত একটা স্বাভাবিক প্রকৃতির সময়কাল। প্রাণের সজীব চেতনারই হচ্ছে যৌবন বা তরুণ ধর্ম। প্রকৃত সত্যবাদী ও দায়িত্বশীল তরুণরা তাদের উদ্গ্রীব বাসনা, প্রজ্ঞা, বাস্তবতা ও সামর্থ্য নিয়ে নিজেদের ভাগ্যন্নয়ন ও সুন্দর শিক্ষা জীবন গড়ে তোলার পাশাপাশি সমাজে আবর্তমানবতার সেবায় আত্ননিয়োগ করেন এবং সমাজে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সচেষ্ট থাকেন। প্রকৃতপক্ষে সেই তরুণরাই জাতি ও সমাজের অমূল্য সম্পদ হয়ে দাড়ান কর্মগুনে চতুর্দিকে প্রশংসিত হন এবং অদূর ভবিষ্যত যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে যোগ্য স্থানে অধিস্থিত হয়ে মানব সেবায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সক্ষম হন।অন্যদিকে শিক্ষিত হয়েও যারা কেবল হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে সমাজে ও জাতির কল্যাণে কিঞ্চিত মাত্র ভূমিকা রাখতে পারেন নাই বা সমাজে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন তাদের যতই ফাইলে ডিগ্রি থাক না কেন ন্যায় ও সত্যকে পাশ কাটিয়ে নিজেদেরকে ও সমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করে বিপদগামী করে থাকেন সেই কষ্টার্জিত বিদ্যা শিক্ষা সমাজের নিকট সমালোচিত, নিন্দিত, ঘৃনিত ও হেয় প্রতিপন্নিত হয়। পরিণামে সমাজে কাপুরুষ হিসেবে পরিচিহ্নিত হন। যা অনর্থক বা মূল্যহীন। প্রত্যেকের কম-বেশি অবশ্যই গুণ, সত্য ও যোগ্যতা আছে।তেমনি তরুণদেরও তাই। তরুণরা জাতির ভবিষ্যত উজ্জ্বল শিখা। জাতি অনেক কিছু আশা করতে পারে তরুণদের কাছ থেকে। উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় সোনালী ভবিষ্যত স্বপ্ন পূরণে ন্যায় ও সত্যকে সামনে রেখে মানব জাতি ও সমাজের কল্যাণে পরিশ্রম দান করতে হবে। বৌদ্ধ ধর্ম কর্মবাদী ধর্ম সত্যের যুক্তিতেই উত্তীর্ণ ধর্ম। যে যেমন কর্ম করে সে তেমন ফল ভোগ করতে হয়। কর্মের গুণ ও দোষের ফলে সমাজে পুরষ্কার-তিরষ্কার প্রাপ্ত হতে হয়। কোন ব্যক্তু নিজেকে নিজেই জোর করে প্রশংসিত বা নিন্দিত করলে গুরুত্ত আসবে না । সমাজ থেকে না আসলে। কর্মের গুণ ও দোষের ফলে সমাজ থেকে আপনা-আপনি ওঠে আসে প্রশংসা বা নিন্দা। আর সমাজে অশান্তি ও কলুষিত হয় যখন দুর্নীতি, অনিয়ম, কুসংস্কার, অসামাজিক কর্মকান্ড ও অনুসংস্কৃতি অনু প্রবেশ করে স্বাভাবিক অবস্থা বা পরিস্থিতি শৃংখলার নিয়ন্ত্রণে বাহিরে চলে যায়। তাতে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্টা করা অবশ্যই করণীয় তরুণ সমাজের। এক সময় শুকরছড়িতে শুভ আগমণে শ্রদ্ধেয় বনভান্তে দেশনা প্রদানকালে দুইজন ছাত্রকে ধর্মচন্দ্র চাকমা(বর্তমান সংঘতিষ্য ভিক্ষু) বিশ্বমনি চাকমা(বদমনি) (তখনকার উভয়ে সাপছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র) উদ্দেশ্য করে বলেন “তোমাল্লোই বুদ্ধ ধর্ময়ান প্রচার গরিম” (তোমাদেরকে নিয়ে বৌদ্ধধর্ম প্রচার করব) তাদের উদ্দেশ্যে বলা মানে অবশ্যই শ্রদ্ধেয় ভন্তে তরুণ সমাজের উদ্দেশ্য করে একথা বলেছেন। আমরা কতই যে ভাগ্যবান আর্যশ্রাবক শ্রদ্ধেয় বনভন্তেকে পেয়েছি। তার আদর্শে আদর্শিত হয়ে এখনও শিক্ষা গ্রহণের সময় এবং পরিবর্তিত হওয়ার সময়। তাই, তরুণ সমাজের প্রতি আহবান আসুন আমরা তথাগত ভগবান বুদ্ধের নির্দেশিত আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গপথ অবলম্ভনে শ্রদ্ধেয় বনভন্তের আর্যনীতি ও বাণী দিকে দিকে প্রচার প্রসারিত করে প্রতিটি অঞ্চলে আদর্শ বৌদ্ধ সমাজ গঠনে সচেষ্ট হই। সদ্ধর্ম শাসন সুরক্ষা ও সুপ্রতিষ্টায় ভূমিকা রাখি।