ছবিঃ ফুরমোন সিড়ির নান্দনিক

গত ৩১ অক্টোবর ও ০১ নভেম্বর তারিখে ফুরমোন আন্তর্জাতিক বনভাবনা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় ১৩ বারের মত শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দান। এই ভাবনা কেন্দ্রটি অন্তত দুর্গম এবং সুউচ্চ পাহাড়ের উপর স্থাপিত বিহার কুঠির। সেই কয়দিন ধরে কষ্ট, শ্রম দান করেন বিভিন্ন জায়গা থেকে স্বেচ্চাসেবক ও কমিটিবৃন্দ। আর ৩১ অক্টোবর রাতে শুরু হয় বেইন বুননের কাজ । রাত ধীরে ধীরে ঘনিয়ে আসলে বিভিন্ন জায়গা থেকে দর্শনার্থী আসতে শুরু করে। কেউ আসে সূর্য ডুবার দৃশ্য দেখার জন্য, কেউ আসে সূর্য উঠার দৃশ্য দেখার জন্য, কেউ আসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সুউচ্চ পাহারের নিসর্গের বাতাস উপভোগ করার জন্য। আর কেউ আসে এই উচু চূরায় বসে পূণ্যকার্য সম্পাদনের জন্য। দর্শনার্থীদের আসতে অনেক কষ্ট পেতে হয়। আর যারা পায়ে হেতে আসেন তাদের আরো অনেক বেশি কষ্ট ভোগ করতে হয়।

০১ নভেম্বর সকাল হলে আরেক দর্শনার্থীদের পাহাড়ে উঠার দল দেখতে পাওয়া যায়। কিন্ত এরা তো দর্শনার্থী না এরা হলো প্রকৃত পূণ্যার্থী। যারা হাজার কষ্ট, ত্যাগ বর্জন করে এই মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পূণ্য লাভ করার আশায় চলে আসে। যাইহোক সকাল ৯ টায় সকল পূণ্যার্থী ও ভিক্ষুসংঘ সমাগম হলে সকাল পর্বের অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে পঞ্চশীল গ্রহণ, দান, উতসর্গ ও সূত্র পর্ব শেষ হলে পর পর করুনাকীর্তি ভান্তে ও বিশুদ্ধানন্দ ভান্তে সকলের উদ্দেশ্যে এই মনোরম পাহারের চূড়ায় ধর্মদেশনা প্রদান করেন।

মনিরত্ন জেতবন অরণ্য কুঠির থেকে আগত করুনাকীর্তি মহাস্থবির ভান্তে বলেন- বুদ্ধের সময় কিছু বণিক সমুদ্র পাড়ি দিয়ে এক সুবর্ণভূমিতে ব্যাবসা-বাণিজ্য করার জন্য যেতেন। আর সেখান থেকে প্রচুর মুনাফা ও সম্পত্তি নিয়ে তারা খুশি মনে বাড়ি ফিরতেন। যদিও যেতে কষ্ট হয় কিন্তু তারা তবুও কষ্টকে উপেক্ষা করে সেই সুবর্ণভুমিতে যেতেন বেশি মুনাফা লাভ করার আশায়। ঠিক তেমনি তোমরাও অতি কষ্টে এই ফুরমোন পাহারের সু-উচ্চ চুড়ায় এইরক পূণ্যের আয়োজন ও দূরদূরান্ত থেকে পূণ্যার্থী জড়ো হয়েছেন। তোমাদের উদ্দেশ্যও থাকতে হবে বেশি পূণ্য লাভ করা। তাহলে তোমাদের এত কষ্টে এখানে আসা সেটা স্বার্থক হবে। এবং বণিকদের মতো তোমারাও বেশী পূণ্য নিয়ে বাড়ি যেতে পারবে। ভান্তে দান করলে কি কি ফল লাভ করা যায় তা তুলে ধরেন-

  • দান করলে ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পায়।
  • দান করলে জ্ঞান বাড়ে।
  • দান করলে সম্মান বাড়ে।
  • দান করলে চিত্ত বিশুদ্ধ হয়
  • পরিশেষে সম্যক জ্ঞান উদয় হয়।

ছবিঃ অনুষ্ঠান আরম্ভের মূহুর্ত

নানিয়াচর রত্নাংকুর বনবিহার থেকে আগত বিশুদ্ধানন্দ মহাসস্থবির ভান্তে বলেন – বনভান্তে তার জীবদ্দশায় অনেক বন বিহার অনুমোদন দিয়ে গেছেন। কিন্ত বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানগুলো টিকিয়ে রাখা অনেক দুষ্কর হয়ে পরেছে। কিছু কূটনীতি মহল এই প্রতিষ্ঠানগুলো উঠিয়ে দেওয়ার জন্য অনেক অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাই তিনি এইরকম সুন্দর ফুরমোন বন ভাবনা কেন্দ্রকে টিকিয়ে রাখতে সবাইকে একতাবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। আর ভান্তে করুনাবশত হয়ে যুবক-যুবতীদের উদ্দেশ্যে বলেন – যারা এই পূণ্যভুমি কঠিন চীবর দানে এসে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তারা মরণের পর মহাদুঃখ ভোগ করবে। কারণ এই কঠিন চীবরদানে পূণ্য কর্ম সম্পাদন করলে যেমন তা মহাপূণ্যকর্মশক্তিতে রূপ নেয়। ঠিক তেমনি এহেন সময়ে ব্যভিচার বা পাপকর্ম করলে তা মহাপাপকর্মে রূপ নেয়। তাই তিনি সবাইকে এই দিনে ব্যভিচার ও অন্যান্য পাপকার্য থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।