ছবিঃ কঠিন চীবর মঞ্চে আনা হচ্ছে

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হলো রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে ৪৬তম শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দান। বিকাল পর্বের অনুষ্ঠানে কঠিন চীবর প্রদক্ষিণ ও বিভিন্ন জায়গা থেকে বাদ্যযন্ত্রসহকারে হাজারো পূণ্যার্থীর কল্পতরু আনয়ন সব মিলিয়ে বিহারের প্রাঙ্গন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নাচে-গানে, জয়-জয়কার ধ্বনি দিয়ে কঠিন চীবরকে অনুষ্ঠান মঞ্চে আনা হয়। এই পূণ্যময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজবন বিহারেরে প্রধান পৃষ্টপোষক রাজা দেবাশীষ রায়, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, সংসদ সদস্যা বাসন্তী চাকমাসহ অন্যান্য প্রমুখ।

কঠিন চীবরটি সকলের পক্ষ হয়ে দান করেন ব্যরিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়। বিকাল পর্বের অনুষ্ঠানে সকল প্রাণীর হিতসুখ মঙ্গলার্থে ধর্মদেশনা প্রদান করেন শাসন রক্ষিত মহাস্থবির, ভৃগু মহাস্থবির, প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির ও বনভান্তের ক্যাসেটে ধারণকৃত দেশনা শ্রবণ করা হয়।

ছবিঃ রাজবন বিহার
ছবিঃ রাজবন বিহার মূল মন্দির

খাগড়াছড়ি পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুঠির থেকে আগত শাসন রক্ষিত মহাস্থবির ভান্তে বলেন- চাকমারা যুগে যুগে দেশ হারা ও শাসন হারা হয়েছে। সেই বুদ্ধের সময়ে বিরূরপ অত্যাচার থেকে শুরু করে বহু রাজা-রাজাদির অত্যাচার হয়ে বর্তমানে এই পার্বত্য চট্টগ্রামে পালিয়ে এসেছে। ভান্তে বলেন – কিন্ত এখানেও চাকমাদের আর বেশি নিরাপত্তা আমি দেখতে পাচ্ছি না। তার একমাত্র কারণ হল অহংকার। চাকমারা বেশি অহংকার করার কারণে তাদের এই পরিণতি। সেইজন্য ভান্তে বলেন আগামি দিনগুলো সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে চাইলে সবাইকে অহংকার না করার বারণ করেন তিনি।

ফুরমোন সাধনাতীর্থ আন্তর্জাতিক বন ভাবনা কেন্দ্র থেকে আগত ভৃগু মহাস্থবির ভান্তে বলেন- বনভান্তে আমাদেরকে কিভাবে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাবে সেই চিন্তা করতেন, কিভাবে আমরা বৌদ্ধধর্মকে মানিয়ে নিতে পারব তার ব্যবস্থা করে দিতে চেয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় ভান্তের অনুরোধে বিভিন্ন শাখা বন বিহার প্রতিষ্ঠা করা, রাজবনে প্রেস স্থাপন, পালি কলেজ নির্মাণ, সমগ্র ত্রিপিট বাংলায় প্রকাশ ও বিশ্বশান্তি প্যাগোডা নির্মাণ। উপরোক্ত সবগুলো প্রায় বাস্তবায়িত হয়েছে এখন বাকি রয়েছে রাজবনে বিশ্বশান্তি প্যগোডা নির্মাণ। এই প্যাগোডা নির্মাণ কেন এত মূখ্য বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে? ভান্তে উপমা দিয়ে বলেন, আমাদের(ভান্তেদের) মধ্যে যেমন প্রথম সারি, দ্বিতীয় সারি, তৃতীয় সারি ইত্যাদি ভিত্তিক সম্মান দেওয়া হয়। আর কলা ব্যবসায়ীরা ও মানের ক্রমান্বয়ে কলাছড়াগুলো সাজান। তার কারণ হল যদি দেখার মত, জানার মত, শুনার মত, উপলদ্ধি করার মত স্তুতি না থাকে তা সহজেই কারোর নজরে চলে আসে না। সেইজন্য এই বিশ্বশান্তি প্যাগোডা নির্মাণ এখন মূখ্য বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

সর্বশেষ বনভান্তের ক্যাসেটে ধারণকৃত দেশনা শ্রবণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।
ছবিঃ শোভাযাত্রা
ছবিঃ শোভাযাত্রা