ছবিঃ বনভন্তের শততম জন্মদিন উদযাপিত

গেলো ২ জানুয়ারী ২০১৯ খ্রিঃ রোজ বুধবার থেকে ৮ জানুয়ারি রোজ মঙ্গলবার অবধি(সপ্তাহব্যাপী) বিস্তারিত অনুষ্ঠানমালা নিয়ে পরম পূজ্য বনভন্তের শততম শুভ জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে।

পূজ্য বনভন্তের শততম জন্মদিন উদযাপনী পরিষদ যেসব কর্মসূচী প্রণয়ন করে সেগুলোর মধ্যে পবিত্র ত্রিপিটক পূজা ও পাঠ পবিত্র ত্রিপিটক র‍্যালী, ১১৮ জন শ্রামণের উপসম্পদা দান ও অনুষ্ঠানিক বরণ বনভন্তের স্মৃতিচারণ সভা, বনভন্তের দেহধাতু সমীপে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন, জন্মদিনের কেক কাটা, সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণ ছিলো উল্লেখযোগ্য। এসব কর্মসূচির ভেন্যুগুলো হল মুরঘোনা, রাজবনবিহারের প্যাগোডা মাঠ, দেশনালয়, ভিক্ষু সীমা, হাসপাতাল ও পিটিআই স্কুল।

এসব কর্মসূচির মধ্যে ৪ জানুয়ারি রোজ শুক্রবার (৩য় দিনে) পরম পূজ্য বনভন্তের বিভিন্ন সময়ের দুর্লভ স্থিরচিত্র প্রদর্শনী। উদ্বোধন করেন বনভন্তে শিষ্যসংঘের ও আবাসিক প্রধান ভদন্ত প্রজ্ঞালংকার মহাথের এবং চাকমা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়। ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে বনভন্তেকে নিয়ে রচনা ও সঙ্গীত প্রতি্যোগিতা। উল্লেখ্য, ত্রিশরণ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ (টিএফবি)’র সৌজন্যে অনুষ্ঠিত হয় বৌদ্ধ সংগীত প্রতিযোগিতা এবং ত্রিপিটক পাবলিশিং সোসাইটির সৌজন্যে চিত্রাংকন প্রতি্যোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। তা’ছাড়া পবিত্র ত্রিপিটক অ্যাপস এর নির্মাতা তরুণ কম্পিউটার প্রকৌশলী জয়তু খীসা (জুনান) সংবর্ধনা লাভ করেন। উল্লেখ্য মাত্র ৪২ এমবি’র এই অ্যাপসটি Google Play Store থেকে Pobito Tripitaka সার্চ দিয়ে Install করা যাবে।

পরম পূজ্য বনভন্তের পদসেবায় বিশেষভাবে আত্নোৎসর্গকারী নিবেদিত প্রাণ ১৭ জন বৌদ্ধ উপাসক-উপাসিকা মরণোত্তর সম্মাননায় ভূষিত হন সমাপনী দিনে। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন যথাক্রমে- ১। রাজ মাতা আরতি রায়, ২। কল্পরঞ্জন চাকমা (প্রাক্তন পূর্ণমন্ত্রী), ৩। সমর বিজয় চাকমা, ৪। লগ্ন কুমার চাকমা (কালিগজ্যা), ৫। মংরাজা পাইহ্লা প্রু চৌধুরী, ৬। ডাঃ হিমাংশু বিমল দেওয়ান, ৭। ডাঃ নিহার বিন্দু তালুকদার, ৮। বুরীচোগী বাপ, ৯। স্নেহ কুমার চাকমা, ১০। অরুন চন্দ্র চাকমা, ১১। অজিত কুমার দেওয়ান, ১২। পেজা গালা চাকমা, ১৩। নিশিমনি চাকমা, ১৪। গজেন্দ্রলাল বড়ুয়া, ১৫। ডাঃ অরবিন্দু বড়ুয়া, ১৬। প্রকৌঃ অশোক কুমার বড়ুয়া, ১৭। রাজেন্দ্র লাল বড়ুয়া।

সম্মাননা প্রদাব পর্ব শেষে ভদন্ত প্রজ্ঞালংকার মহাথেরর সদ্ধর্ম দেশনাক্রমে এই বিশাল আয়োজনটির পরিসমাপ্তি ঘটে।