ছবিঃ ফুরমোন চূড়া মন্দির

প্রতি ব্লক থেকে যদি মাসিক একশত টাকা ভিত্তিক একহাজার দাতা পাওয়া যায়। তাহলে প্রতি মাসে একটি ব্লক থেকে পাওয়া যাবে এক লক্ষ টাকা। এভাবেই যদি একশত ব্লক তৈরি করা যায় তাহলে প্রতি মাসে পাওয়া যাবে এক কোটি টাকা। আর সেই হিসাবে এক বছরে পাওয়া যাবে ১২ কোটি টাকা। তাহলে আমাদের মত এই বিশ্বশান্তি প্যাগোডা নির্মাণ করা কোনো ব্যপারই না। তবে সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করে যেতে হবে। এই কথাটি বলেন ফুরমোন আন্তর্জাতিক বন ভাবনা কেন্দ্রের ১৩ তম শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দানের বিকাল পর্বের অনুষ্ঠানে রাজবন বিহার থেকে আগত পরম শ্রদ্ধেয় প্রজ্ঞালংকার ভান্তে।

সংক্ষিপ্ত হিসাব
ব্লক সংখ্যা = ১০০ টি
প্রতি ব্লকে দাতার সংখ্যা = ১০০০ জন
মোট দাতার সংখ্যা (১০০*১০০০) = ১,০০০০০ জন
মাসিক টাকা উত্তোল = ১০০ টাকা
মোট মাসিক উত্তোলন (১০০*১০০০০০) =১,০০০০০০০ টাকা
এক বছরে উত্তোলন (১২*১০০০০০০০০) = ১২,০০০০০০০ টাকা

গত ৩১-০১ নভেম্বর ফুরমোন আন্তর্জাতিক বন ভাবনা কেন্দ্রের ১৩ তম শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দানে বিকাল পর্বের মূল অনুষ্ঠানে রাজবনে বিশ্বশান্তি প্যাগোডাটি নির্মাণের জন্য এই সংক্ষিপ্ত হিসাবটি তুলে ধরেন রাজবন বিহারের আবাসিক প্রদান ও পরম পূজনীয় বনভান্তের শিষ্যসংঘের প্রধান ভদন্ত প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির। সকাল পর্বের অনুষ্ঠান শেষ হলে বিকাল ১.৩০ টায় শুরু হয় মূল পর্বের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করা হয়। গানটি পরিবেশন করেন প্রিয় বাবু চাকমা। এরপর অনুষ্ঠানের নিয়মানুসারে পঞ্চশীল গ্রহণ, দান, উতসর্গ ও সূত্র পর্ব শেষ হলে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাবু আশুতোষ চাকমা। এবং দায়কের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু বৃষকেতু চাকমা।

তিনি তার গৃহীর পিতার এক উপদেশের কথা তুলে ধরেন- আমার পিতা বলতেন পুত্র তোমাদের কিছুই না থাকুক অন্তত একটা জিনিস থাকতে হবে। আর সেটা হলো লজ্জা। লজ্জা থাকলে ভয় ও থাকে। এতে তোমরা চুরি, ডাকাতি, মদ, গাজা নানবিধ পাপকর্ম করতে লজ্জা লাগবে।

বিকালের অনুষ্ঠানে পর পর যথাক্রমে জ্ঞানপ্রিয় মহাস্থবির, ভৃগু মহাস্থবির ও প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির ভান্তে সকল প্রাণীর হিতসুখ মঙ্গলার্থে ধর্মদেশনা প্রদান করেন।

জ্ঞানপ্রিয় ভান্তে বলেন- বুদ্ধ বলেছেন পৃথিবীতে চার প্রকার পুদগল(ব্যক্তি) বিদ্যমান। এর মধ্য জ্ঞ্যায় পুদগল ও অধিগতি পুদগল উত্তম। তারা ধর্মনীতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষানীতি সবকিছুই বুঝে। এই পুদগলরা যদি কোনো সমাজে জন্মগ্রহণ করে তাহলে সেই সমাজ উত্তোরত্তর শ্রবৃদ্ধি লাভ করে। বুদ্ধ আরো গৃহীদের সম্পদকে পাচ ভাগ করতে বলেছেন। যথা- ০১। একভাগ দান করতে, ০২। একভাগ সঞ্চয় করতে, ০৩। একভাগ নিজের জন্য, ০৪। একভাগ পরিবারের জন্য‌ ০৫। একভাগ বন্ধুবান্ধবের জন্য। ভান্তে আরো বলেন যারা তাদের সম্পত্তিকে এই ভাগে ভাগ করে চলেন তারা কোনদিন অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়েন না।

ভৃগু ভান্তে বলেন – বর্তমান ফুরমোনে অনেক উন্নতি হয়েছে। রাস্তাঘাত, বিদ্যুত, সিড়ি এবং বেইনঘরসহ পূণ্যফলের প্রভাবে এমন একটি দুর্গম জায়গায় স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরো ফুরমোনের আগামী নানাধরনের উন্নতির কথা তুলে ধরে পূণ্যার্থীদের মনে শ্রদ্ধা জাগিয়ে দেন। ভান্তের অনুরোধে রাজবন বিহারে প্যাগোডার উদ্দেশ্যে ৬৭,৬৩৪ টাকা উত্তোন করা হয়। এবং এই টাকা পূণ্যার্থীরা তাদের মনোবাসনা পূরণ হওয়ার জন্য শ্রদ্ধাচিত্তে দান করেন।

সর্বশেষ ভদন্ত প্রজ্ঞালংকার ভান্তে উপরোক্ত হিসাবটি পূণ্যার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। এবং সেটি বাস্তবায়নের জন্য গণ্য-মান্য ব্যক্তিদেরকে উদ্যোগ নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। শেষে ভান্তে সবাইকে এই কঠিন চীবরদানের প্রভাবে সর্বপ্রকার ভয়, উপদ্রব, রোগ, শোক থেকে মুক্তি পেয়ে অন্তিমে নির্বাণ লাভের হেতু হোক এই আশির্বাদ দিয়ে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত ঘোষণা করে দেন।