ছবিঃ পূণ্যার্থীবৃন্দ
পূর্ব প্রকাশের পর

সর্বশেষ ভদন্ত প্রজ্ঞালংকার ভান্তের দেশনার মধ্য দিয়ে সকাল পর্বের অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি হয়। তারপর অনুত্তর পূণ্যক্ষেত্র ভিক্ষুসংঘকে দুপুরের ভোজন পরিবেশিত করার জন্য ভোজনশালায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সাথে সকল পূণ্যার্থীদের জন্য ও খাবারের আয়োজন করা হয়।

এদিকে মৌনতলা, আবাসিক, উত্তর কুতুকছড়ি ইত্যাদির জায়গা থেকে কল্পতরুসহ বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে পূণ্যার্থীদের দল চলে আসতে থাকে। সকল কল্পতরু একজায়গায় জড়ো হয়ে গেলে কঠিন চীবরকে সামনে দিয়ে পূণ্যার্থীরা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে কড়া রৌদের মধ্য দিয়ে ও জয় ধ্বনি করে অনুষ্ঠান মঞ্চে চলে আসে। তাদের সবার মনে ফুটে উঠেছিল পূণ্যের হাসি। এ যেন এক প্রতিযোগিতা। তবে এটা অন্য কোন প্রতিযোগিতা নয় সবার মঙ্গলের প্রতিযোগিতা।

বিকালের অনুষ্ঠানের পর্বও একটি উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয়। গানটি পরিবেশন করেন রাঙ্গামাটি বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক একাডেমির শিল্পী পূণ্যশংকর চাকমা। এরপর অনুষ্ঠানের নিয়মানুসারে পঞ্চশীল গ্রহণ, দান ও সূত্র পর্ব সেই সাথে প্রার্থনা পর্ব শেষ হলে দায়কের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সকল প্রাণীর হিতসুখ মঙ্গলার্থে যথাক্রমে সুধর্মানন্দ মহাস্থবির, সুমন মহাসস্থবির, জ্ঞানপ্রিয় মহাসস্থবির ও জিনবোধি মহাস্থবির ভান্তে দেশনা প্রদান করেন।

সুধর্মানন্দ ভান্তে বলেন- বনভান্তে জীবিত থাকাকালীন আমাদের জন্য বিভিন্ন উপায় খুজে দিতেন যে আমরা কোন উপায়ে বৌদ্ধধর্মকে গ্রহণ করতে পারব, অন্যান্য জাতির মতো কিভাবে আমরা পৃথিবীতে মাথা উচু করে দাড়াতে পারবো। সেই উপায়গুলোর মধ্যে একটি হলো রাজবন বিহারে বিশ্বশান্তি প্যাগোডা নির্মাণ। বনভান্তের এটি বহু আগে থেকে স্বপ্ন ছিল বলে তিনি বলেন আমরা রাজবনে উত্তরের মাঠে কোন উন্নয়ন কাজ করতে পারিনি। তিনি সবাইকে এই পূণ্য কাজে অংশগ্রহণ করতে বলেন।

জ্ঞানপ্রিয় ভান্তে বলেন- বিভিন্ন ধর্মর মধ্যে উত্তম ধর্ম হচ্ছে চারিআর্যসত্য ও প্রতীত্যসমুতপাদ নীতি ধর্ম। এই ধর্ম আচরণ ও প্রতিপালন করলে যে কেউ দুঃখের চিরঅবসান ঘটাতে পারে। তিনি আরো বলেন প্যাগোডা নির্মাণ করলে তিনটি ফলের অধিকারী হওয়া যায়। যথা- ১। যেই জাতি প্যাগোডা নির্মাণ করবে সেই জাতিকে কেউ অধঃপতনে নিয়ে যেতে পারে না। ২। স্বধর্মের সুরক্ষা হয়। ৩। দিন রাত পূণ্য হয়।

সর্বশেষ ভদন্ত জিনবোধি ভান্তের দেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্ত হয়।