ছবিঃ সুগত চাকমা (ননাধন)’র সাথে কিছুক্ষণ
নমস্কার, আপনি কেমন আছেন?

সুগত চাকমাঃ “বাপ ভেই সগলরে ঝু! সবাইকে (নমস্কার)। কেঝান আগ? (কেমন আছেন?) বেগে গম থেই-য়্য (সবাই ভাল থাকুন)।”

বোধিধারা আপনার সাথে আলাপ চারিতার জন্য কিছুক্ষণ সময় চাই। হ্যা বলবেন কি?

সুগত চাকমাঃ বোধিধারা সাময়িকীটি আমি পছন্দ করি। এটির লেখাগুলি সুন্দর মন ও জীবন গঠনে অবদান রাখবে বলে বিশ্বাস। তাই সবসময় স্বাগত জানাই।

আমাদের চাকমা সাহিত্যাঙ্গনে আপনার অবদান অনেক। আপনার জীবনের স্বর্ণালী সময় পার করেছেন- সমাজ, সাহিত্য, ও সংস্কৃতির উৎসকর্ষ সাধনে একজন তুখোর লেখক, গবেষক ও সংগঠক হিসেবে। সে সম্পর্কে আরও কিছু জানেন কি?

সুগত চাকমাঃ চাকমা সাহিত্যঙ্গনে আমাদের জানা ও অজানা বহু খ্যাত ও অজ্ঞাত ব্যক্তির অবদান কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণযোগ্য। যেমন সাধক কবি শিবচরণ জোর দিয়ে বলেছেন- “যে বর মাগে সে বর পায়”। পরমবৃক্ষের ছায়া পেয়ে প্রার্থনা করেছেন- “একালে উ-কালে তরে-দ”। এখন দেশে বিদেশে চাকমা পন্ডিত, গবেষক ও বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। তারা নিশ্চয় স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কল্যাণকর অবদান রাখবেন।

বোধিধারা প্রায় একযুগ ধরে প্রকাশিত হচ্ছে। এই পত্রিকার লেখক, পাঠক শুভাকাঙ্ক্ষি যারা আছেন তাদের জন্য আপনার বিশেষ বার্তা কী?

সুগত চাকমাঃ অভিনন্দন! অভিনন্দন ও অভিনন্দন। “ঘরে ঘরে আলো জ্বালো শিক্ষায়-দীক্ষায় ভরিয়ে তোলো সুন্দর সমাজ গঠন করো বুকে নিয়ে বল”। ভাললাগা থেকে বই পড়া ও পরে লেখালেখি কাজ শুরু হয়েছিল। পরে মাঝে মাঝে স্কুল, কলেজ ও ভার্সিটিতে নানা বিষয় পড়লাম, শিখলাম, জানলাম। পদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে M.Sc ডিগ্রীর অর্জনের পরবর্তীকালে Modern Language নিয়ে M.Phil ডিগ্রী অর্জন করলাম। এখন Land, People and Culture নিয়ে পড়তে ভাল লাগে। ঐতিহ্যর সাথে সৌন্দর্য, মাধুর্য ও আনন্দ বিষয়ে শিশুদের জন্য নানা লেখা রচিত হোক। তেমনটা কামনা করি। চলমান শতাব্দীতে এখানকার চাকমারাসহ অন্যান্যরা আরো অধিক শিক্ষিত, স্বচ্ছল, সুগতিশীল, বিজ্ঞানমনস্ক হউক এই কামনা করি।

আপনার জীবনব্যাপী সাহিত্য সাধনার মূলে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট কোন উদ্ধেশ্য আছে সে সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলুন?

সুগত চাকমাঃ আমার শৈশবের দিনগুলি কেটেছে ৫০ –এর দশকে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের যেখান থেকে চন্দ্রঘোনার দিকে একটি সড়ক পথ গিয়েছিল তৎপার্শ্বে এক সবুজ পাহাড়ে, কৈশোরের দিনগুলি কেটেছে খাগড়াছড়ির মহাজন পাড়া গ্রামে খাগড়াছড়ি ছোট নদীর তীরে। শৈশব থেকে নানা জাতিগোষ্ঠীর লোক ও তাদের বৈচিত্রময় সংস্কৃতি আমাকে তাদের সম্পর্কে কৌতুহলী করে তুলেছিল। শৈশব ও বাল্যকালের গল্পশোনার দিনগুলি ছিল ভারী আনন্দদায়ক দিন। গল্প, রূপকথা এসব শোনানোর লোকও ছিল। তাতে ক্রমস মনের দিগন্ত ও কল্পনা প্রসারিত হয়েছিল। শৈশবে আমাদের তখনকার প্রতিবেশী একগাঙ্গুলী পরিবারের মাধ্যমে কলিকাতা থেকে প্রকাশিত দেব সাহিত্য কুটিরের প্রকাশনা কতারা বই আরব্য রজনী বই পড়ার মত সুযোগ হয়েছিল।

আমাদের আজকের সাহিত্য ও সংস্কৃতি কর্মীদের কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? যেহেতু আপনিই এই ক্ষেত্রে এককালে পথিকৃতের ভূমিকায় ছিলেন। আপনার ভক্ত সাধারণ হিসেবে হয়তো অনেকেই লেখা-লেখি করছেন, আপনার এই অনুসারীদের কিছু পরামর্শ দিবেন কি?

সুগত চাকমাঃ যারা সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করেন তাদের মধ্যে খুব সুন্দর মন থাকে; তারা মূলত মানব দরদীও হয়ে থাকে, বৈচিত্র ও বর্ণাঢ্যতাকে ভালবাসে। তাই তারা এ যাবৎ যে সকল কল্যাণকর সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন এগুলির সবিশেষ মূল্য আছে। এগুলির অবশ্যই সুফল দায়ক হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। এখন নাট্য শিল্পীর বাস্তবিকই প্রতিবছর দর্শকদেরকে আনন্দদান করছেন; কন্ঠশিল্পীরাও খুব মিষ্টি সুরে দেশে বিদেশে গিয়ে গান করছেন; নৃত্যশিল্পীরাও দর্শকদেরকে মাতিয়ে তুলেন। তাদের প্রদর্শিত নাচ-গান বিদেশেও এমকি ভিন্ন মহাদেশেও আমার দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। ৮০ দশক থেকে এখনকার লেখকদের পাশাপাশি মহিলা কবিতা, গীতিকার, গবেষক ও লেখিকারাও ভাল ভাল লেখা লিখেছেন। উল্লেখ্য যে, চাকমা ভাষায় সুরচিত বৌদ্ধ ধর্ম বিষয়ক গান ও সংগীত এখন বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকৃত পক্ষে বহু পথিকৃত ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে তাদের অনন্য অবদান প্রথম থেকেই নারীদের সাফল্যের সাথে রেখে চলেছেন।