ছবিঃ দালাই লামা বৌদ্ধ ভিক্ষু

জাতি সংঘের ভেটো ক্ষমতাধর পারমানবিক ব্যক্তিধর মহাচীনের একটি অংশ; এশিয়ার নভিস্থান তিব্বতের জনগণের অত্যাধিক ও রাজনৈতিক নেতা দালাই লামা। বিশ্বের বৌদ্ধদের গৌরবকে আরো তুঙ্গে তুলে ধরে ১৯৮৯ সালে তিনি শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। বিশ্বের সর্বোচ্চ পুরস্কারে ভূষিত হলেন একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু-ভাবতেই গর্বে ভরে ওঠে বুক। ১৯৫৯ সালে সার্বভৌম তিব্বত যখন বুদ্ধের জয়গানে যারা জগৎ আলোকিত করেছিল ঠিক তখনি মাওবাদী মহাচীনের আগ্রাসনের শিকার হলো। এক রকম স্তিমিত হয়ে গেলো এক উদীয়মান বৌদ্ধ শক্তির অমিয় শিখা। পবিত্র অন্তঃকরণের অধিকারী দালাই লামা দক্ষিণ হস্ত প্রসারিত শান্তিবাণী উচ্চারণ করেন- ‘সব্বে সত্তা সুখিতা হোন্ত’।

সদ্ধর্ম রক্ষায় প্রতিরূপ দেশ চাই। এটা বুদ্ধেরও কথা। সেই কথা ভেবে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন যে, কী করা যায়? অগত্যা এক লক্ষাধিক উপাসক-উপাসিকা সমভিব্যাহারে এই বৌদ্ধ ভিক্ষু ভারতে এসে প্রতিষ্ঠা করেলন “ধর্মশালা”। ধর্ম শালায় থেকে তিনি সূর্্য্যে র ন্যায় প্রজ্ঞা প্রভায় আলোকিত করতে থাকেন বিশ্ব মনীষাকে। বৌদ্ধ দর্শন, মতাদর্শ ইতিহাস প্রচারে আত্নোৎসর্গকৃত, নিবেদিত প্রাণে এই বৌদ্ধ মণীষী বসে থাকার পক্ষপাতী নন। মানবাধিকার ও শক্তির পক্ষে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধায় বিগলিত হয়ে যায় মানুষের মন।

এই বুদ্ধের পুত্রের মনে শুধুই বুদ্ধের গুণকীর্তন, বুদ্ধের ধর্মের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা, ধর্ম প্রতিষ্ঠায় অদম্য-উদ্যম। তাঁর কিছু অভিবাসন নিম্নে তুলে ধরা গেল। “আমার মত একজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর নিকট প্রতিটি মানুষের অধিকার অত্যন্ত মূল্যবান এবং গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানবাধিকারের নীতি যখন মানা হয়, তখন আমরা শান্তিতে থাকি। বৌদ্ধ মতে প্রত্যেক মানুষের একটি মন আছে। যার মৌলিক প্রকৃতিই হই বিশুদ্ধতা এবং অদূষনীয়। আমার এই বৈশিষ্ট্যকে বলি জ্ঞানের উৎস্য। ঐ মতে প্রত্যেক মানুষই ক্রমান্বয়ে পূর্ণতা অর্জন করতে পারে। যেহেতু মনের বৈশিষ্ট্য হল বিশুদ্ধতা। কাজেই আমরা বিশ্বাস করি সকল ধরনের নেতিবাচক দিকগুলো ক্রমান্বয়ে মন থেকে দূর করা। আমাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ফলে নেতিবাচক প্রভাব বব্ধে হয়ে যায়। যেহেতু প্রতিটি মানুষের মধ্যেই এ ধরনের সম্ভাবনা আছে সেহেতু প্রত্যেক মানুষই সমান। প্রত্যেকেরই সুখী হবার এবং কষ্টকে দূর করার অধিকার আছে। বুদ্ধ নিজেই বলেছেন- তাঁর নিকট কোন জাতি বা কোন সমাজই গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাঁর নিকট সেই ব্যক্তি গুরুত্ব বহন করেন যিনি ন্যায়ের পথে জীবন অতিবাহিত করেন।”

বিগত ১৯৬৫ সালে চীন তিব্বতকে কিছু স্বায়ত্বশাসন দিলেও ১৯৬৭ সালে আবার নিয়ন্ত্রণে নেয়। তিব্বতের আয়তন ১২ লক্ষ বর্গকিলোমিটার। মূলতঃ বিস্তৃত মাল্ভূমি, পাহাড় ও তুষারকৃত দেশ। সমুদৃপৃষ্ট হতে গড় উচ্চতা প্রায় ৫ হাজার মিটার। এশিয়ার অনেক বড় নদী, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু, মেকং, সালউইন, ইয়াংসি প্রভৃতির উৎপত্তি তিব্বতে। ১৯৫৭ সালে এদেশে কয়লা, জিপসাম, লোহা, ম্যাঙ্গানিজ, সোনা, সোহাগা, লবণ ইত্যাদির সন্ধান পান ভূতত্ববিদরা।

বর্তমানে চীন সরকার পর্যতন ক্ষেত্রে তিব্বতের মনোরম পরিবেশ ব্যবহার করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছে। এক শ্বেতপত্রের মাধ্যমে তিব্বতের সংস্কৃতি সংরক্ষণের লক্ষে ব্যাপক কাজ করে যাওয়ার যে দাবি(চীন) করেছে ভারতের ধর্মশালা থেকে তিব্বতের নির্যাচিত সরকারের তথ্য ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে তা প্রত্যাখান করা হয়। চীন দাবি করে যে তিব্বত পুনর্গঠনে ১ হাজার ৪শ’টি বৌদ্ধ বিহার সংস্কার করা হয়েছে। বৌদ্ধ বিশ্বের এই সংঘ রত্নের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। জয়তু বুদ্ধ সাস্‌নম।