আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান হোমিওপ্যাথিক একটি নিরাপদ প্রাকৃতিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক, গবেষণালব্ধ চিকিৎসা পদ্ধতি। প্রতিটি ঔষধই সুস্থ মানব দেহে পরীক্ষিত এবং প্রমাণিত চিকিৎসা বিজ্ঞান স্থান লাভ করেনি। এতদসত্ত্বেও অনেকেই ভিন্ন অভিমত পোষণের কারণে নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতি এবং জটিল রোগ থেকে পরমারোগ্য লাভ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন। গুটি কয়েক ভিন্ন ধারণা পোষণ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যকভাবে জ্ঞাত না থাকার দরুন। যা হোক এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য দুই একটি মতাদর্শ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা যাক। অনেকেই মনে ধারণা বয়োবৃদ্ধ হলে হোমিওপ্যাথিক ঔষধে কাজ করে না শুধু ছোট শিশুদের জন্য হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ভাল। বিভিন্ন প্রকার নেশাদ্রব্য এবং এ্যালোপ্যাথিক ঔষধ সেবনে অভ্যস্ত হলে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ কাজ করে না। হোমিও ঔষধ বিলম্বে কাজ করে, অতিরিক্ত বাছা খাবার খেতে হয়। আরো বহুবিধ কারণে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পিছপা হন। যদিও সাম্প্রতিককালে এমন ভাবধারার লোকের সংখ্যা খুব বেশি নয়। আবার খুব কমও নয়, বস্তুতপক্ষে উপরোক্ত ধারণাগুলো সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও এখানে নেই রোগী যেই বয়সের হোক না কেন হোমিওপ্যাথিক ঔষধ লক্ষণ ভিত্তিক যথাযথ প্রয়োগ করলে সুফল সুনিশ্চিতভাবে লাভ করা যায়। যেমন ছোট একটি উদাহরণ দেওয়া যায়। বিষ যেই পান করুক না কেন সবাইকে এমনই পরিণতি বরণ করতে হবে। তেমনি হোমিওপ্যাথিক ঔষধের ও এমন এক অদ্ভুদ শক্তি রয়েছে। যা সঠিক পদ্ধতিগতভাবে ব্যবহৃত হলে যে খাবার হোক একইভাবে সুফল প্রদান করে আবার অনেকে মনে করেন বিভিন্ন নেশা পান কিংবা এ্যালোপ্যাথিক ঔষধ সেবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে হোমিওপ্যাথিক কাজ করে না। এমন ধারনাও পুরোপুরি সঠিক নয়। তাহলে মানুষ নেশাগ্রস্ত হয়ে মাত্রাধিক রাসায়নিক ঔষধ সেবন করে উম্মত্ত মানসিক শারীরিক ভাবে রোগগ্রস্ত হলে তাকে তো বিনা চিকিৎসায় মারা যেতে হবে। কিন্ত হোমিওপ্যাথিক ঔষধের এমন আশ্চর্য্য ক্রিয়া আছে নেশা এবং বিভিন্ন উগ্ররাসায়নিক ঔষধ সেবনে বিষ্ক্রিয়ায় হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সেবনে তা নিস্ক্রিয় তো করেই অপরদিকে যেকোনো ধরনের নেশা সেবনের তৃষ্ণা বিতারিত করার সুবন্দোবস্তও রয়েছে। হোমিওপ্যাথিক ঔষধ বিলম্বে কাজ করে ভেবে অনেকেই এই চিকিৎসা থেকে বিরত থাকেন। এই বদ্ধমূল ধারনা পোষণ করাও সমাজে একটি রীতি রয়েছে। ঔষধে দ্রুত এবং বিলম্বে কাজ করার পেছনে রয়েছে রোগের গতি প্রকৃতি। রোগ তরুণ হলে হোমিওপ্যাথিক ঔষধে যুব দ্রুত কাজ করে। পক্ষান্তরে রোগ পুরাতন আকার ধারণ করলে যেই প্যাথিক হোক না কেন রোগারোগ্য বিলম্ব হতে পারে।। যদিও এ্যালোপ্যাথিক ঔষধে দ্রুত কাজ করে। রোগের উপসম হয় মাত্র আরোগ্য সহজেই হয় না।