বহু আগে থেকে বড় সাধ ছিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য দেখার ইতিমধ্যে ভারতের অনেক রাজ্য দেখা হয়েছে তীর্থ ভ্রমণের সুবাদে। কিন্ত আমাদের পার্বত্য অঞ্চলে চট্টগ্রামে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সময় আমাদের আদিবাসিরা এই ত্রিপুরা রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছেন। তাই দেখার ইচ্ছে অনেক। এমন সময় আমার বিয়াই দেব প্রসাদ দেওয়ান জানাই যে, ত্রিপুরায় আমার ভাগিনা হয় তার ছেলের বিয়েতে নিমন্ত্রণ করেছে, যাবে নাকি।

আমি এক কথাতে রাজি হয়ে গেলাম। নির্ধারিত দিন অর্থাৎ ২৬/০৪/২০১৮ খ্রিঃ তারিখে রোজ বুধবার ভোরে মাইক্রো যোগে আমাদের শুভ যাত্রা শুরু। যাত্রী সংখ্যা মোট পাঁচজন। আমি, বিয়াই, অমূল্য রঞ্জন দা, বাবু নীলরঞ্জন এবং বাবু হীমাংশু খীসা। চলার শুরুতেই আমাদের ব্যাঘাত হলো। মানিকছড়ি যাইয়া আমি বললাম যে, দেখ আমাদের পাসপোর্ট, টাকা পয়সা নিয়েছেন কিনা চেক করেন। তখনই লেগে গেল ঘাবলা। অনুন্যাদার ডলারগুলি রেখে এসেছে বাড়ীতে।

ততক্ষণে গাড়ি ঘাগড়া পৌছে গেছে। ফিরে আসলে যাত্রা অশুভও হতে পারে তবে উপায় একটা পাওয়া গেল। বিয়াই কিছু ডলার বেশি নিয়েছে। সেখান থেকে ধার নিয়ে সমস্যার সমাধান হলো। সকাল ৭:৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌছে গেলাম। সকালে যানযট ছিল না, তাই গাড়ী দ্রুত চালানো সম্ভব হয়েছে। ৯ টার ট্রেন ৯:১৫ মিনিটে ছাড়বে। প্রায় ১১ টার দিকে আমরা আখাউড়া পৌছি। সেখান থেকে দুইটা সিএনজি নিয়ে বর্ডারের দিকে রওয়ানা হলাম। সিএনজি পাঠিয়েছেন শান্তি বরণ বাবু, রাজস্ব কর্মকর্তা উনি থাকাতে বাংলাদেশে ইমিগ্রোশানের কোন অসুবিধা হয় নাই। তবে ওপারে যাইয়া যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। ওপারে ইমিগ্রোশান ফরম পূরণ করে কর্মচারীকে দিই। উনি ফরম দেখে বললেন, কোথায় যাবেন?

আমি বললাম আগারতলা। তারপর বলেন আগারতলা কোথায় থাকবেন হোটেলে। হোটেলের নাম কি? আমার হঠাৎ মনে পড়লো একটা হোটেলের নাম বললাম হোটেল সোনার তরীতে। আবার বললেন হোটেলের ফোন নাম্বার দেন। আমি বললাম আমি তো এখনও যায় নাই, ফোন নাম্বার পাবো কোথা থেকে। উনি নাছোরবান্ধা ফোন নাম্বার লাগবেই। শেষে ওখানে থেকে বিয়াই এর কাছে গেলাম ঘটনা বললাম। শেষে তার আত্নীয়ের ফোন নাম্বার নিয়ে আর একটা কাউন্টারে যাইয়া নূতন আর একটা ফরম লিকে জমা দিলাম।

ভদ্র মহিলা কিছুই বললেন না, অনুমতি দিলেন। এরপর কাস্টমে গেলাম, বসো ভদ্রলোক বললেন ডলার আছে, দেখান, আমি দেখালাম। ডলার শুধু পাসপোর্টে এনডোর্স থাকলে হবে না, স্বচক্ষে দেখতে চান। যারা দেখতে পারে নাই তাদের নাকি ফেরত যেতে হয়েছে। এভাবে অনেক ঝামেলা ছাড়িয়ে ত্রিপুরায় পা রাখলাম। ওপারের বিয়ারের ভাগিনা নিক্সন শিং ইয়ট গেস্ট হাউজ নামে গেস্ট হাউজ আগরতলায় তুলে দিল। রুমে ঢুকে হাতমুখ ধুয়ে বাহির হলাম রেস্টুরেন্টের খোঁজে। আজ সারাদিন ভাত খাওয়া হয় নাই। তখন প্রায় বিকাল ৫টা বাজে। কাছেই একটা উন্নতমানের হোটেল পাওয়া গেল, হোটেল দিনজার। ...চলবে