জায়গা নির্দিষ্ট করতে থাকে বলে অথবা ঝর্ণা নালার মধ্যে হাঁস, মোরগ কিংবা ছাগল, নতুবা শূকরছানা দিয়ে সেবা বা পূজা দিতে হবে। তবেই রোগীটা সুস্থ হওয়ার সম্ভব বলে জানিয়ে দেয়। তখন ঐ রোগীর পরিবার অর্ধশিক্ষিত কিংবা নিরক্ষর লোকেরা বিশ্বাসে জমে গিয়ে বৈদ্য ডেকে সেবা বা পূজা দেওয়ার ব্যবস্থা করে। সেই ক্ষেত্রে আমি বলব নিজের জীবন তথা পারিবারিক জীবন বাঁচাতে খারাপ দেবতার দোহাই দিয়ে নিজে ভোগ করা, অর্থাৎ নিজে বাঁচুক পরেরটা যে হবেই হোক, তাতে কিছু আসে যায় না। তাতে তথাগত গৌতম বুদ্ধের বাণীতে বলেছেন,

দণ্ডে সকলেই ভয় পায়
সকলেই প্রাণ ভালোবাসে
আপনিও সকলেরই মতো
কাজ নাই কারো প্রাণের নাশে।

এই বুদ্ধের বাণীটূকু কেহ উপলদ্ধি করে না, ইহাতেও আমি বলব বিশ্বাসের উপর সবকিছু। তাই ত্রিরত্নের উপর বিশ্বাস রাখ এবং শ্রদ্ধা কর, ত্রিরত্নের প্রতি যার বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা নাই, তার প্রতি ঐ খারাপ দেবতাগুলোর প্রভাব ঘটে। যার ত্রিরত্নের প্রতি বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা থাকে তার প্রতি খারাপ দেবতাগুলি কোনক্রমে প্রভাব খাটাতে পারে না। বিশ্বাস সম্পর্কে আর একটু ছোট গল্পের মতো উদাহরণ দিই- একদা কোন এক ব্যক্তি মলত্যাগ করতে বসেছিল অন্ধকার রাত্রে। তিনি মলত্যাগ করার সময় গোবরের পোকার মত কালো বর্ণের মতো একটি পোকা উড়ে এসে তার নিচে কোথায় কী জানি লুকিয়ে গেল। তখন তিনি ভাবল আমার মলত্যাগের দরজা দিয়ে আমার পেটের ভিতর প্রবেশ করল। এবং সেই রকম ও অনুভব করল। তখন থেকে তিনি দুঃচিন্তা পড়ে গিয়ে নাওয়া, খাওয়া এরকম প্রায় অনিয়মিত। তাই তার শরীর দিন দিন অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। সুতরাং ঐ বিশ্বাসটুকু জমে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন ঔষধ পথ্য সেবন করেও বিফল। অনেক ডাক্তার বৈদ্য দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। এমনি করে বছর দু/এক অতিবাহিত হওয়ার পর রোগী শুকিয়ে যেন কাঠ।

তখন দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পর একজন মনোবিজ্ঞানীর কানে গেল, তার রোগের সম্পর্কে পরস্পরের মাধ্যমে তখন সংবাদ দিয়ে ঐ রোগীকে ডেকে এনে রোগীর রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে বললেন, তুমি যদি লজ্জা না করে আমার সম্মুকে মলত্যাগ করতে পার তাহলে বিশেষ কৌশলের মাধ্যমে তোমার পেটে প্রবেশ করা বা জমে থাকা ঐ গোবরের পোকাটিকে বের করে দিতে পারি। তখন রোগীটি আরোগ্য লাভের আশায় দিন তারিখ ঠিক করে এ মনোবিজ্ঞানী কাছে গেল। সেদিন রাত্রী বেলা উঠানে মলত্যাগ করার সময় মনোবিজ্ঞানী বিশেষ কৌশলে রোগীর পেট ও পীঠ চাপ দিয়ে আগে থেকে সংগ্রহ করা কালো বর্ণের গোবরের পোকাটিকে নিচে ফেলে দিল, তখন রোগীকে দেখিয়ে দিয়ে বলল তোমার আরোগ্য হয়ে উঠল সেইজন্য আমার ধারণা সবকিছু। তাই এই কুসংস্কারচ্ছন্ন অন্ধ বিশ্বাসটুকু পিছনে ফেলে বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তি চিকিৎসা বিজ্ঞানের উপর আস্থা রাখার জন্য মারমা সমাজকে প্রাণী হত্যা মহাপাপ থেকে যতদূর সম্ভব দূরে থাকা আহবান জানাচ্ছি।

কেননা তথ্য প্রযুক্তির যুগে বিজ্ঞানীর মতামতে চাঁদের বুড়সুতা কাটার সম্পর্কে ও কেন বিশ্বাস রাখব। আবার চাঁদের মধ্যে খরগোশের চিত্র কিংবা বটগাছের চিত্রগুলি কল্পনা মাত্র। আবার কেন আমরা তির্যক প্রাণী বানর গণনাকে বিশ্বাস করে অহেতুক মানসিক যন্ত্রণা কেন ভোগান্তি হব। বর্তমান উন্নত বিশ্বের দিকে তাকিয়ে দেখি যেমব, চীন, জাপান, আমেরিকা, রাশিয়া, কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দিকে, দৃষ্টু ফেরালে দেখি চাঁদের দেশকে পিছনে ফেলে মঙ্গলগ্রহের পর্যন্ত অবতরণ করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি রকেটের মাধ্যমে, আর আমরা এদেহশের কিছু সংখ্যক লোকেরা ঐ তির্যক প্রাণী বানর গণনাকে বিশ্বাস করে অহেতুক মানসিক যন্ত্রণা ভোগান্তি হচ্ছে। তাই আমি বলব সত্যের পথে এগিয়ে এসো। নিস্কন্টক পথে অগ্রসর হও। ইহলোকে যাহা কিছু কর পরজন্মে তা অবশ্যই অবশ্যই ভোগাতে হবে অনুতপ্ত হতে হবে। বুদ্ধের বাণীতে বলেছেন, মানুষ মাত্রেই কর্মের অধীন, যেমন কর্ম তেমন ফলেই প্রাপ্য। ত্যাগেই প্রকৃত সুখ, ভোগেই দুঃখ। আপনার আমার ধনদৌলত, মান-সম্মান, ঐশ্বর্য্য পরলোকে কিছুই নিতে পারবে না। নিতে পারবে শুধু কুশল কর্ম ও অকুশল কর্ম। তাই গৃহী বৌদ্ধরা পঞ্চশীলের প্রতি আস্থা রেখে অন্ধ বিশ্বাসটুকু পিছনে ফেলে সদা সত্যের দিকে এগিয়ে এসো। এমনিতে মারমা সমাজের আকাশে ঘনঘটা, কখন যে প্রবল ঝরে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে বলাবাহুল্য। তাই আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অন্ধবিশ্বাসটুকু পিছনে ফেলে ধর্মের প্রতি আস্থা রেখে, আর শিক্ষিত সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে সম্মুখের পানে অগ্রসর হওয়ার আহবান জানাই এবং প্রত্যাশা রাখি।