কথাই বলে পিতা/মাতা সন্তানকে যাহা কিছু দান করেন তৎমধ্যে সর্বোত্তম দান হলো, সু-শিক্ষা ও উত্তম শিক্ষা। তাই মারমা সমাজে অবুঝ শিশুদের অভিভাবকেরা কিছু কিছু সু-শিক্ষার মতো কিছু শিক্ষা দিতে দেখা যায়। বাস্তব চিত্রে একটু খেয়াল করলে বুঝতে অসুবিধা হবে না। যেমন আপনার বাড়িতে কিংবা প্রতিবেশী অভিভাবকেরা অবুঝ শিশুদের প্রতি কীভাবে সু-শিক্ষা দিতেছে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে শিশুরা গোসল করতে না চাইলে পিতা/মাতা/কিংবা অভিভাবকেরা বলে তোমার শরীরে যদি ময়লা থাকে বা গোসল না করো তুমি আগামী দিনে সূর্য ব্রত মেলায় যেতে পারবে না।

নতুন করে তোমাকে সূর্যমেলায় নেব না। নতুবা দূর্গাপূজা দেখাতে নিয়ে যাব না বা পারবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। এই সমস্ত শিক্ষা যখন অভ্যস্ত হয়, তখন সনাতন ধর্মের সূর্যাব্রত মেলার সময়, কিংবা দূর্গাপূজার সময় উঠে পড়ে লেগে যায় কান্নাকাটি আরম্ভ করে দেয়। তখন অভিভাবকেরা আর্থিক স্বচ্ছল কিংবা অস্বচ্ছল হোক অবুঝ শিশুদেরকে কোলে পিঠে করে যেতে দেখা যায়। আর অস্বচ্ছল অভিভাকরে ধার-দেনা কর্জ-বির্জ করে এমনকি কোলের দুধের শিশুকে নিয়ে অনেক মায়েরা দূর-দূরান্ত থেকে আসতে দেখা যায়। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, অর্ধশিক্ষিত নিরক্ষর পরিবারগুলো মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। আমাদের এলাকায় বর্তমানে পরলোকগত একজন বাঙ্গালী তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় আমাকে একসময় প্রশ্ন করেছিল, কিরে বাপু তোমাদের মারমা জাতিরা হিন্দুদের দুর্গাপূজা কিংবা সূর্য্যরত মেলার সময় ছেলে বুড়া মা মেয়ে সকলেই কি যেতে হয় নাকি? তখন আমি বিরুত্তর আমতা আমতা করে বলেছিলাম কিছু কিছু সদাই করতে যায়।

আর কি। তখন তিনি বলেন সদাই করতে গেলে বাজারে পাওয়া যায় না? কিন্ত প্রকৃতপক্ষে আমি বলব অসচেতন মারমা সমাজে বাতুলা মাত্র। বাতুলতা ছাড়া কিছু হতে পারে না। সুতরাং তখন থেকে আমার মনে প্রশ্ন জাগে এই বাতুলতাকে কী ভাবে চিকিৎসা দেওয়া যায়। অসচেতন অবহেলিত মারমা সমাজের কাছে, কীভাবে বুঝবে, কীভাবে আমার মনের ভাব প্রকাশ করব। মনের ভাব প্রকাশ করতে গেলে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দ্বারায়। তাই আজ আমার মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য সচেতন মহলের কাছে আত্নপ্রকাশ করছি এবং সাধারণ ভাষায় কয়েক লাইন লেখা চেষ্টা করছি। এটা কিন্ত ধর্মের অবমাননা করার কথা নয়। নিজেকে আত্নশুদ্ধি হওয়ার কথা, সচেতন মনোভাব পোষণ করার আমার প্রচেষ্টা। এদিকে মারমা সমাজ আগে থেকেই অবহেলিত। বর্তমানেও তাই। শত শত বছর আগে আরাকান রাজ সভা ছত্রভঙ্গ হয়, তখন থেকে কিছু অংশ আরাকানী বর্তমান বাংলাদেশে এসে বৃহত্তর চট্টগ্রাম, কুমিল্লা এমনকি ঢাকা পর্যন্ত গড়িয়ে অনাবাদী জায়গায় উপর আবাদ করে বসবাস কিংবা আধিপত্য স্থাপন করে গড়ে তোলে।

যা চিরন্তন সত্য। বাস্তবতা নিরিক্ষে সাক্ষী স্বরূপ বলা যায় বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময় ভাগ্যবান লোকেরা গুপ্তধন হিসাবে সোনা রুপার টাকা পাওয়া যেত। তা কি বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিরা রেখে দিল? তখনকার দিনে বর্তমানের মতো কোন ব্যাংক ব্যালেন্স ছিল না বিধায় ঐ আদিবাসী আরাকানি কিংবা বর্তমান মারমা সম্প্রদায় আদিবাসীরা মাটির কলসী অথবা মটকার মধ্যে রেখে মাটিতে পুতে রাখা হয়ে ছিল। তাহা বর্তমানে গুপ্তধন নামে পরিচিত। আর তখনকার দিনে কোনো ডাক্তার ছিল না। আদিবাসী কোনো অসুখ-বিসুখ না হওয়ার জন্য বাৎসরিক কিংবা চৈত্র সংক্রান্তির সময় পাঁচমিশালী নহে কমপক্ষে শতরকম তরিতরকারি একবার রান্না করে খেলে অসুখ-বিসুখে তেমন ঔষধপথ্য প্রয়োজন হত না। মাঝেমধ্যে কবিরাজী কিংবা বনজ ঔষধপথ্য দিয়ে সেবা শুশ্রুষা করা হতো। আর মানুষের আয়ুস্কাল ও শতবছরের কাছাকাছি কিংবা আর বেশি বেঁচে থাকত। আর কিছু মানুষ খারাপ দেবতা কিংবা খালেনালে দেবতাকে বিশ্বাস করে সেবা বা পূজা দিয়ে আসত। যাহা মোরগ কিংবা শূকর ছানা বা ছাগল জবাই করে অসুখ বিসুখে হলে আরোগ্য লাভ হওয়ায় জন্য। যাহা মূলত অন্ধবিশ্বাস বললেই চলে। আর তখনকার বর্তমান যুগের মতো নতুন নতুন রোগ আবিস্কার হয় নাই। যেমন সাধারণত ম্যালেরিয়া কিংবা বিভিন্ন রকম মরণব্যাধি ক্যান্সার হলে ও উন্নত চিকিৎসা বিজ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় পরীক্ষাগার কিংবা যন্ত্র ছিল না। বিধায় ঐ অন্ধ বিশ্বাসটুকু জমে ছিল বিশেষ করে আদিবাসীদের মনে। তাই এই অন্ধ বিশ্বাসটুকু কীভাবে সরানো যায় ইহাই আমার প্রচেষ্টা। কেননা বর্তমান ও মারমা সমাজে বিদ্যমান, যে কারো কাছে এলার্জী কিংবা শরীর কোন স্থানে ফোরা উঠলে স্থানীয় বৈদ্যের কাছে গিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গণনা করে। অথবা লাঠি চালান দিয়ে...